বৃহস্পতিবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুর লক্ষীনারায়ন হাইস্কুল প্রাঙ্গনে তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সভাপতি অজিত মাইতি, সাধারণ সম্পাদক গোপাল সাহা, কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহা,তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা মহম্মদ রফিক ও কেশপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি উত্তম ত্রিপাঠি সহ আরো অনেকে।
ওই অনুষ্ঠানে ব্যাপক মানুষের ভিড় হয়।ওই অনুষ্ঠানে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি তার ভাষণে বলেন বিজেপি কেশপুরে সন্ত্রাসের বাতাবরণ তৈরি করার চক্রান্ত শুরু করেছে।কিন্তু কেশপুরের মানুষ সাম্প্রদায়িক শক্তি বিজেপিকে কোনদিন কেশপুরের মাটিতে জায়গা করে দেবে না। অজিত মাইতি আরো বলেন সিপিএমের হার্মাদ রা এখন বিজেপির বড় নেতা হয়েছে ।তারাই কেশপুরের বিভিন্ন গ্রামে সন্ত্রাস সৃষ্টি করার চক্রান্ত শুরু করেছে। তিনি বলেন তৃণমূল কংগ্রেস সন্ত্রাস কে কোনদিনই বরদাস্ত করবে না। তৃণমূল কংগ্রেস শান্তি উন্নয়ন চায়।
তিনি বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেশপুরের উন্নয়নে একাধিক প্রকল্পের কাজ করেছেন। তিনি 2011 সালে বলেছিলেন বদলা নয় বদল চাই ।তাই বাংলার মানুষ 34 বছর এর সিপিএম সরকারকে সরিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে ক্ষমতায় এনেছেন।তাই তিনি ক্ষমতায় আসার পর কেশপুরে একটা মানুষের রক্ত ঝরে নি,একটা সিপিএম কর্মীকেও ঘর ছেড়ে যেতে হয়নি।
কারণ তৃণমূল কংগ্রেস শান্তি চায়। তৃণমূল কংগ্রেস যদি অশান্তি চাইতো তাহলে আজকে কেশপুরের বুকে সিপিএম বড় বড় কথা বলতে পারতো না। তিনি বলেন যারা একসময় কেশপুর কে রক্তাক্ত করেছে যারা অবিভক্ত মেদিনীপুরে সন্ত্রাসের বাতাবরণ সৃষ্টি করেছিল, যারা ছোট আঙারিয়া ,নেতাই গণহত্যা ঘটেয়েছিল তারাই এখন বিজেপির বড় নেতা হয়ে উঠছেন। তারাই এখন তৃণমূল কর্মীদের হুমকি দিচ্ছে দেখে নেওয়ার। তাদের একটি নেতা আছে যিনি কিনা দেখে নেওয়ার ও শ্মশানে পাঠানোর হুমকি দিচ্ছে। কিন্তু দলীয় কর্মীদের তিনি শান্ত থাকার নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন বাংলার জনগণ স্বৈরাচারী সাম্প্রদায়িক শক্তি বিজেপিকে বাংলায় কোন দিন বাংলার ক্ষমতায় নিয়ে আসবে না। 2021 সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার প্রতিটি আসনে তৃণমূলের প্রার্থীরা জয়লাভ করবেন ।তিনি আরো বলেন যে কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহা এলাকায় থেকে মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছেন। আপনারা তার সাথে থাকুন তাকে সঙ্গে নিয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করুন। তিনি বলেন হিংসা শেষ কথা বলে না শেষ কথা বলে মানুষ। তাই মানুষই বাংলায় শেষ কথা বলবে। কেশপুরে তারা বিজেপিকে আনবেন না।
তৃণমূলকে আবার ফিরিয়ে আনবেন। কারণ তৃণমূল সরকার উন্নয়ন এর কাজ করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস কেশপুরের মানুষ এর পাশে রয়েছে।তাই কেশপুরের মানুষ তৃণমূলের পাশে রয়েছে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে সর্বস্তরের মানুষকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

Comments
Post a Comment