নন্দীগ্রাম : আসন্ন ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের ১৪২টি বুথের মধ্যে মাত্র ২টি বুথে ত্রিস্তরে ভোট হবে। অধিকাংশ আসনে বিরোধীদের নমিনেশন না থাকায় এমন চিত্র এই প্রথম ঘটতে চলেছে নন্দীগ্রামে।
তবে জেলা পরিষদ আসনের জন্য প্রতিটি বুথেই হচ্ছে ভোট। জেলা পরিষদের তিনটি আসনেই প্রার্থী দিয়েছে এসইউসিআই। তবে এখানে বিজেপি কোনও আসনেই প্রার্থী দিতে পারেনি।
পঞ্চায়েত ভোটের অর্থ হল ত্রিস্তর নির্বাচন। অর্থাৎ গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদ। এই তিন স্তরের জন্যই ভোটারেরা বুথে গিয়ে ভোট দেন। কিন্তু নন্দীগ্রামের ক্ষেত্রে ভোটারেরা সম্ভবতঃ এই প্রথমবার তিনটি স্তরে ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সূত্রের খবর, নন্দীগ্রাম ১নং ব্লকে রয়েছে ৩টি জেলা পরিষদের আসন। যেখানে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সব আসনগুলিতে প্রার্থী দিয়েছে এসইউসিআই। তাই সমস্ত বুথে শুধুমাত্র জেলা পরিষদ অর্থাৎ ১টি স্তরের জন্যই ভোট হচ্ছে।
অপরদিকে ৩০টি পঞ্চায়েত সমিতির মধ্যে মাত্র ১টিতে নির্দল প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছে। যার ফলে ৩টি বুথে হচ্ছে ২টি স্তরের অর্থাৎ পঞ্চায়েত সমিতির ভোট।
আর ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৪২টি আসনের মধ্যে মাত্র ৩টি আসনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করছে বিরোধী প্রার্থীরা। যার মধ্যে ১টি আসনে সমিতির প্রার্থী না থাকায় শুধুমাত্র ২টি বুথেই ত্রিস্তরের ভোট হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। এই বুথ দুটি হল কেন্দেমারী গ্রাম পঞ্চায়েতের ওসমানচক এবং মির্জাচক বুথ।
এই প্রথম নন্দীগ্রামে এভাবে বিরোধী শূন্য হওয়ার পেছনে শাসকদল উন্নয়নই কারণ দেখালেও বিরোধী বিজেপির বক্তব্য, তৃণমূলরা সন্ত্রাস চালিয়ে তাদের নমিনেশন করতে দেয়নি।
তাই বিরোধী শিবিরের খবর, তারা সম্ভবতঃ এই প্রথমবার জেলা পরিষদের আসনের জন্য একজোট হয়ে এসইউসিআই প্রার্থীকেই ভোট দেবেন। এরফলে গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিতে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করলেও নন্দীগ্রামের ৩টি জেলা পরিষদের আসনে কিছুটা হলেও দুশ্চিন্তায় থাকছে শাসক দল, এমনটাই মনে করছে বিরোধী শিবিরের নেতারা।

Comments
Post a Comment