ভুল বোঝাবুঝির ফলেই বিএসএফ’এর কনস্টেবল মৃত্যু- আসাদুজ্জামান খান; ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও অপ্রত্যাশিত- বিএসএফ


পদ্মায় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এবং বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)-এর মধ্যে গোলাগুলিতে এক বিএসএফ হেড কনস্টেবল বিজয় ভান সিং (৫২)-এর মৃত্যুর যখন দুই বাহিনীর মধ্যে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ চলছে এবং এই ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে-তখনই বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান জানিয়ে দিয়েছেন ‘প্রয়োজন হলে সমস্যা সমাধানে ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাথেও কথা বলতে রাজি।’
শনিবার সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে ঢাকা থেকে কলকাতায় ফোনে খান জানান ‘দুই বাহিনীর ভুল বোঝাবুঝির ফলেই বিএসএফ’এর কনস্টেবলের মৃত্যুর মতো ঘটনা ঘটেছে। এই ধরনের ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে আর না ঘটে তা সুনিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যদি প্রয়োজন হয়, তবে এই পরিস্থিতি সম্পর্কে আমি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ’এর সাথেও কথা বলবো।’


বিএসএফ’এর কনস্টেবল মৃত্যুর ঘটনাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন ‘দুই দেশ এবং তাদের বাহিনীর মধ্যেও আন্তরিক সম্পর্ক বিরাজ করছে। সেখানে একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে কিন্তু আমি আশাবাদী যে দুই বাহিনীর ডিজিরাই নিজেদের মধ্যে বৈঠকে সব সমস্যা মিটিয়ে নেবে।’

বিজিবির হাতে আটক এক মৎসজীবী (প্রণব মন্ডল)-এর মুক্তি পাওয়া প্রসঙ্গে খান বলেন ‘তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। যখন দুই দেশের মৎসজীবীরা তাদের অজান্তেই অন্যের সীমান্তে অনুপ্রবেশ করেন, তখন পতাকা বৈঠকের মাধ্যমেই তাদের ফেরত দেওয়া হয়ে থাকে।’





স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিমত ‘এই ঘটনা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কোন প্রভাবই ফেলবে না। আমি যতদুর জানি নিয়ম মেনেই চলতি বছরের শেষের দিকে দিল্লিতে দুআ বাহিনীর ডিজি পর্যায়ের বৈঠক হবে। যদি প্রয়োজন হয় আমি অমিত শাহের সাথে নিজে কথা বলে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করবো। আমার মনে দুই দেশের মধ্যে একটা পতাকা বৈঠক করে এই ধরনের সমস্যা মেটানোর পথ খোঁজা উচিত।’

এদিকে গত বৃহস্পতিবার সকালে সীমান্তে ওই অনাঙ্খিত ঘটনার পর শনিবার সকালের দিকে মুর্শিদাবাদ জেলার জলঙ্গির কাকমারিচর বিওপি এলাকা ঘুরে দেখে বিএসএফ’এর এডিজি (ইষ্টার্ন কমান্ড) আইপিএস কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার সিং। তিনি কথা বলেন বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও গ্রামের মানুষদের সাথে। মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত কনস্টেবল রাজবীর যাদবের সাথে দেখা করে তার শারীরিক অবস্থারও খোঁজ খবর নেন বিএসএফ কর্মকর্তা। 

পরে এই ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক ও অপ্রত্যাশিত বলে মন্তব্য করে সঞ্জীব কুমার সিং বলেন ‘বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে অত্যন্ত সুসম্পর্ক আছে। দুই বাহিনীর কর্মকর্তারাই একে অপরকে ভাল ভাবে চেনে। দুই দেশের মধ্যেও ভাল সম্পর্ক বিরাজ করছে। তার পরেও এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও অপ্রত্যাশিত ঘটনা। দীর্ঘদিন ধরে যেখানে দুই বাহিনী একযোগে কাজ করছে সেখানে এই ধরনের ঘটনা বাস্তবিক পক্ষেই আমাদের কাছে অত্যন্ত মর্মান্তিক।’ 
ঘটনা সম্পর্কে তিনি জানান ‘আমাদের কাছে যে তথ্য আছে তাতে জানা গেছে একটি মাছ ধরার নৌকাকে বিজিবির তরফে বাধা দেওয়া হয়। এরপর ওই নৌকায় করেই দুইজন মৎসজীবী ভারতীয় পাড়ের দিকে চলে আসলেও একজনকে বিজিবি আটক করে রাখে। ফিরে আসা দুইজনই এপারে কর্তব্যরত বিএসএফ’এর কমান্ডেন্টকে সেই খবর দিলে বিএসএফএর সদস্যরা বিজিবির সাথে কথা বলতে যায়। বিএসএফ এর সদস্যরা সেখানে পৌঁছনোর পর কিছু অপ্রতীতিকর ঘটনা ঘটে। আমাদের বাহিনীর সদস্যরা যখন ফিরে আসছিল সেসময়ই বিজিবির দিক থেকে গুলি ছুটে আসে এবং তাতেই আমাদের এক হেড কন্সটেবল শহীদ হন। অন্য এক কনস্টেবল মারাত্ম ভাবে আহত হয়েছেন, তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। গোটা ঘটনাটি নিয়েই উপযুক্ত পর্যায়ে আলোচনা চলছে। যদিও তদন্তের পরই আসল ঘটনা জানা যাবে বলেও জানান তিনি। যে এজকজন মৎসজীবী বাংলাদেশে আটক রয়েছেন তাকেও দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে বিএসএফ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার ওই ঘটনার পর থেকেই সেখানে গ্রামবাসীদের মাছ ধরা, কৃষিকাজের ক্ষেত্রে সাময়িক প্রভাব পড়েছে। যার ফলে সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের। দ্রুত সেই সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে স্থানীয় কমাডেন্ট, ডিআইজি, আইজি-রা পদক্ষেপ নেবেন বলেও আশ্বাস দেন বিএসএফর এডিজি।

এদিকে বিএসএফ’র তরফে প্রথমে গুলি চালানো হয়েছে বলে বিজিবি’র তরফে যে দাবি করা হয়েছিল-সেই দাবিকে খারিজ করে বিজিবি’এর বিরুদ্ধে পাল্টা খুনের মামলা দায়ের করেছে বিএসএফ। শনিবার বিএসএফ’এর তরফে একটি ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট (এফআইআর) দায়ের করা হয়। এনিয়ে মুর্শিদাবাদ জেলার পুলিশ সুপার মুকেশ কুমার জানান ‘আমরা বিএসএফ’এর তরফে একটা অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।’
বিএসএফ’এর এডিজি সঞ্জীব কুমার সিং’র অভিমত ‘আমাদের কাছে এখনও পর্যন্ত যে তথ্য আছে বিএসএফ’এর তরফে কোন আগ্রাসী মনোভাব নেওয়া হয় নি।’

Comments