বিজেপি ও নবাগত মিমকে ঠেকাতে বাম তৃমমূল জোট ! হ্যাঁ এমন অবাস্তব দাবি করেছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা তথা অভিনেতা জয় ব্যানার্জি।বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্,কারিনি কমিটির সদস্য জয় ব্যানার্জির এমন দাবি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ।যদিও রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কোনও শব্দ নেই তা ভারতীয় রাজনীতি বারংবার দেখিয়ে দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, রাজ্যের মুসলিম অধ্যুষিত বিধানসভা এলাকাগুলিতে আচমকাই মুসলিম রাজনৈতিক দল মিম সক্রিয় হয়ে উঠেছে।রাজনৈতিক মহলের ধারণা , তৃমমূল কংগ্রেসের মুসলিম ভোটে থাবা বসাতে চলেছে মিম।ফলে আসন্ন পুরসভা ও বিধানসভা ভোটে বিজেপির জয়ে রাস্তা সুগম হতে পারে।যদিও পাল্টা যুক্তি তৃণমূলের পক্ষ থেকে , বাংলার মাটিতে মুসলিম লীগ সফল নয় সেখানে মিম বেশি দূর এগোতে পারবে না। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যে মিমের সক্রিয়তা নিয়ে বলেছেন, বহিরাগতকে বাংলার রাজনীতে আনা হচ্ছে ষড়যন্ত্র করে। রাজ্যে মিম-এর বাড়বাড়ন্ত নিয়ে তৃণমূল কর্মীদের আগেই সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সতর্ক করেছিলেন পুলিস প্রশাসনকেও। ভিন রাজ্য থেকে এসে কেউ কেউ উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখছেন বলেও অভিযোগ করেন মমতা। নাম না করে মিম-এর ব্যাপারেও পুলিসকে সতর্ক করেন মমতা।
উল্লেখ্য, সম্ভবত জানুয়ারির শুরুতেই কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে জনসভার আয়োজন করতে চলেছে মিম । আর সেই জনসভায় প্রধান বক্তা হিসাবে হাজির থাকতে পারেন দলের সুপ্রিমো আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। ওই সভা থেকেই এরাজ্যে পুর নির্বাচনের প্রচার শুরু করতে চায় মিম। এক মিম শীর্ষনেতা এমনটাই জানিয়েছেন। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ক্রমশ বাড়ছে মিম -এর সংগঠন। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের সব কটি কেন্দ্রে প্রার্থী দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে দলটি। ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গ লাগোয়া বিহারের কিষানগঞ্জে বিধানসভা উপনির্বাচনে জিতেছে মিম । তারপর থেকে উত্তরবঙ্গ ও বিহারে তাদের সংগঠনে জোয়ার এসেছে। মিম বাংলার মাটিতে সফল হবে কিনা তা ভোট রাজনীতির পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না বলে অনেকেই দাবি করেছেন।তাদের যুক্তি মুসলিম এলাকাগুলিতে মিম ইমাম ,মাওলানা ধরে যে ভাবে এগোচ্ছে তাতে তৃণমূলের ভোট ব্যাঙ্কে থাবা বসাতে পারে।সামনেই মিম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি কলকাতায় জনসভা করবেন।সেই জমায়েতই আগামীদিনের বাংলার রাজনৈতিক দিক নির্দেশ করবে।
হুগলিতে এদিন জয় নাটকের ঢঙে বলেন, কংগ্রেস তো খুঁজেই পাওয়া যায় না।আমরা যদি কিছুদিনের মধ্যে দেখতে পাই বিমান বসু তৃমমূলে এসে গেছে আমরা অবাক হব না।আমরা যদি কিছু দিনের মধ্যে দেখতে পাই মমতা ব্যানার্জি আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে মিটিং করছে আমরা অবাক হব না।এই তিনটে দল কেন তিনশোটা দল এলেও বিজেপিকে আটকাতে পারবে না।বিজেপি 21সালে বাংলায় ক্ষমতায় আসবে।আর মমতা ব্যানার্জির তো গলা শুকিয়ে যাচ্ছে।একদিকে বিজেপি এক দিকে আবার মিম।তৃমমূলের অর্ধেক লোক বলবে আমি মিমে চললাম।বাকি অর্ধেক লোক বলবে আমি বিজেপিতে চললাম।মমতা ব্যানার্জি ভাইপোকে নিয়ে হাওয়া খাবেন বসে।এই পরিস্থিতি খুব শিঘ্রিই আসছে।আর মমতা ব্যানার্জির রাজনৈতিক জীবনে যদি সবচেয়ে বড়ো রাজনৈতিক ভুল হয়ে থাকে তা হল ভাইপোকে রাজনীতিতে নিয়ে আসা।অভিষেক ব্যানার্জি পলিটিক্সের পি জানে না তাকে তৃণমূলের সেকেন্ডম্যান করে ভাবি মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছে।ফলে যা হাল হওয়ার তাই হয়েছে।যে হারমোনিয়াম বাজাতে জানে না তাকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে গজল গাইতে।এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে হবে।
২৬ নভেম্বর সেতু কির্তনীয়া নামের এক রাজনৈতিক সচেতন বাসিন্দা টুইটারে লিখেছেন, রাজ্যে২৭%র মুসলিম ভোটার নিয়ে এরা নির্নায়ক শক্তি হয়ে মহারাষ্ট্রের পরিস্থিতি তৈরি করলে কি মেনে নেওয়া যাবে ?
টুইটারে সেতু কির্তনীয়াকে শুভ্রাংশু শেখর রিটুইট করে উত্তরে বলেছেন, ১. কয়জন মুসলিম স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিল কি এমন প্রশ্ন করা অবান্তর। ২. মিম র সাথে মিলে যাবেনা। নিশ্চিত থাকুন। দিদিমনি নিজের ছায়াকেও বিশ্বাস করেন না। ৩. আশা করিনা। দিদিমনির ভোট ভান্ডার মুসলিমদের বোকা বানিয়েই চলে। হিন্দু বাঙালিরা অনেকেই মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে। মিম দেখে মজা নিন শুধু।
বিজেপি নেতা জয় ব্যানার্জি হুগলিতে নিজের ওপর তৃণমূলের হামলার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, বিজেপির লোক মার খেতে ভয় পায় না, মরতেও ভয় পায়না।আর বিজেপির লোক মার দিতেও হাত কাঁপে না বন্ধু।আমাদের যতই মারো,কেস দাও আমরা খোঁচা খাওয়া বাঘের মত ঝাঁপিয়ে পড়তে রাজি।জয় বলেন , সারা পশ্চিমবঙ্গ খুঁজলে এত গাজা পাওয়া যাবে না যত গাজার কেস আমরা খেয়েছি। গত লোকসভা ভোটে আমরা তৃমমূলের থেকে 18খানা আসন বের করেছিলাম।আমাদের ঘোড়া দৌড়াচ্ছিল খুব জোরে।কিন্তু গত বাই ইলেকশনে দূর্ভাগ্য বশত আমরা 3/0 তে হেরে যাই।মানুষ মাত্রই ভুল হয়।আমরা মানুষ তাই ভুল করতেই পারি।তাই আজকে আমাদের কোনও আচারনে রাজ্যবাসীর যদি অভিমান হয়ে থাকে আর তার জন্য যদি হেরে থাকি তাহলে নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের দূত হিসাবে হাত জোড় করে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।এটা আমাদের শাপে বর হয়েছে।আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তৃমমূলের সরকারকে উতখাত করে বাংলায় নরেন্দ্র মোদীর বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠা করব।আমাদের একটাই লক্ষ্য বাংলাকে সুন্দর করা।আমি আমার সিনেমার কেরিয়ারে দেখেছি পশ্চিমবাংলায় মারপিটের ছবি চলেনা।রক্তারক্তির ছবি চলেনা।বাংলায় ভালোবাসার,প্রেমের , সাংসারিক ও সামাজিক ছবি চলে।আমরা বাংলার মাটিতে মানুষের কোনও কুকুরেরও রক্ত ঝরতে দেব না।আপনাদের ফুলমালা নিয়ে কোনও শহীদ দিবস পালন করতে হবে না।আমরা কোনও মায়ের কোল খালি হতে দেব না।
জয় ব্যানার্জি বলেন, আজকে ধর্ষনের যুগ চলছে।আজকের মেয়েরা বাড়ির বাইরে গেলে বাড়ির লোকেরা আতঙ্কিত হয়ে থাকে।বাংলায় যেদিন বিজেপির সরকার গড়বে তখন আমার কোনও বোনের আচল কেন ওড়না ধরে টানার সাহস দেখায় তার হাত আমরা কেটে দেব।মেয়েরা বিপদ মুক্ত থাকবে।আশির দশকে কলকাতা থেকে গ্রামবাংলায় নাইট শো চলত আজ আতঙ্কে সেই নাইট শো বন্ধ হয়ে গেছে।বিজেপি সরকার এলে আবার হই হই করে নাইট শো চালু হবে। তেলেঙ্গানার এনকাউন্টার প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা জয় বলেন,পুলিশের এনকাউন্টারে তৃণমূল খন্ড খন্ড হয়েগেছে।তৃমমূলের নেত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, এই এনকাউন্টার আমি সমর্থন করি না।আর তারই প্রিয় পাত্র অনুব্রত মন্ডল , খাদ্যমন্ত্রী জ্যতিপ্রিয় মল্লিক বলেছেন এই এনকাউন্টার আমি সমর্থন করি।একেকজন একেক সুরে গান গাইছেন।তৃমমূলের সা রে গা মা পা ধা নি সা এক সুরে বাজছে না।তবে আমি একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে এই এনকাউন্টার একশোভাগ সমর্থন করি।যার বাড়িতে মেয়ে বোন আছে তারা একথা বুঝবে।

Comments
Post a Comment