বিধানসভা ভোটে দাদার পুলিশ আসবে, দিদির পুলিশ বসে বসে খৈনি খাবেঃ দিলীপ




আমি আপনাদের এখানে ঘোষণা করছি আগামী বিধানসভা ভোট দিদির পুলিশ দিয়ে হবে না, দাদার পুলিশ দিয়ে হবে। খাঁকি পোশাকের পুলিশকে বুথ থেকে ১০০ মিটার দূরে আম গাছের তলায় চেয়ার পেতে দেওয়া হবে সেখানে বসে বসে খৈনি খাবেন আর ভোট দেখবেন। রবিবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হলদিয়াতে বিজেপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। আর সেখান থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করার হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি।


এদিন দিলীপ বলেন, "দিল্লি থেকে চক্রাবক্রা পোশাক পরে দাদার পুলিশ আসবে। হাতে লাঠি ও বন্ধুকও থাকবে। দিদির যেসব ভাইয়েরা উৎপাত করেন এখনও পর্যন্ত শুধরে যাননি তারা শুধরে যান নয়তো হাত-পা ভাঙ্গে বা মাথা ফাটাবে। হসপিটাল হয়ে বাড়ি যেতে হবে নয়তো সোজা শ্মশানে যেতে হবে। যারা ভয় দেখাচ্ছে তাদের বলেদিন দিন শেষ হয়ে গেছে। হাত তুলে কথা না বলে চোখ নামিয়ে কথা বলুন। আগামী মে মাসে দিদিমণিকে ১৪ তলা থেকে বিসর্জন দেওয়া হবে গঙ্গায়।"


 এদিন দিলীপ ঘোষ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে বলেন, "তিনি বলছেন কেন্দ্র সরকার নাকি স্বৈরাচারী। আপনার নাম ইতিহাসে লেখা থাকবে, আপনার মত স্বৈরাচারী আর কেউ হয়না। উনি শাড়ি পরা হিটলার। তাই পশ্চিমবাংলার মানুষ আজ মুক্তি চাইছে।" বর্তমান রাজ্যে আলু পেঁয়াজের দাম আকাশছোঁয়া। এমন পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি দিলীপ। 


তিনি হলদিয়ার মঞ্চ থেকে বলেন, "আমাদের রাজ্যেই আলুর চাষ হয়। যারা আমাদের রাজ্যে আলু বিক্রি করেছিলেন তারা পাঁচ টাকা করে আলু বিক্রি করেছিলেন। তারাই এখন ৪০- ৪৫ টাকা কিলো আলু কিনছেন। তাও এতো টাকা কেন? মাঝখানের সমস্ত টাকা দিদির ভাইয়েরা খাচ্ছে। সব কালীঘাটে যাচ্ছে। হিমঘরে আলু মজুত রয়েছে কিন্তু আলু বের করতে দেওয়া হচ্ছে না। আলু থেকে যে সমস্ত টাকা আসছে তা দিয়ে ইলেকশন ফান্ড তৈরি করা হচ্ছে। মানুষ কেউ স্বইচ্ছায় ভোট দেবে না তাই ঘুষ দিয়ে ভোট করতে হবে। তাই আলুর দাম আকাশছোঁয়া।" 


সাম্প্রতিক কয়েকদিন আগে লকডাউন পরিস্থিতিতে পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরানো নিয়ে এদিন দিলীপ ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, "লকডাউনে সবচেয়ে বেশি পরিযায়ী শ্রমিক পশ্চিমবঙ্গ থেকে আটকে ছিলেন। তাদেরকে নিয়ে আসেনি দিদিমনি। তারা নিজের পয়সায় বাস ভাড়া করে এসেছিল কিন্তু তাও তাদেরকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বিহারের বর্ডারে আটকে দেওয়া হয়েছে। 


তিন- চার হাজার টাকা খরচ করে এক একজন বাস ভাড়া করে বাড়ি আসছে কিন্তু তার পরেও তাঁদেরকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। আমরা শেষে তাদেরকে মুড়ি জল খাইয়ে ছোট গাড়ি করে বাড়ি পাঠিয়েছি।" এদিন দিলীপ ঘোষ আরোও বলেন, "সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হচ্ছে বসিরহাট, বাদুড়িয়া, ধুলাগড়, কালিয়াচকে। জায়গায় জায়গায় বোম- বন্দুক প্রত্যেকদিন ফাটছে। বোম- বন্দুকের কারখানা পাওয়া যাচ্ছে বাংলায়। বাংলায় উগ্রপন্থীরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আল-কায়েদার সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত রকম উগ্রপন্থীদের আজ পশ্চিমবঙ্গে ডেরা। সারা পশ্চিমবাংলায় জুড়ে জাল বিস্তার করে আছে।" 


এদিনের কর্মসূচিতে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি নবারুন নায়েক। বিভিন্ন দল থেকে এদিন কয়েকশো কর্মী সমর্থক দিলীপ ঘোষের হাত ধরে বিজেপিতে যোগদান করে। আগামীদিনের দলের হয়ে কাজ করার জন্য তাদের স্বাগত জানান দিলীপ। 



Comments