কয়লাখনি গুলিতে নিলামের প্রক্রিয়া শুরু করল কয়লা মন্ত্রক। ৪১ টি খনির মধ্যে ১৯ টি খনিকে নিলাম করা হল। এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়লেন ইসিএলের শ্রমিক সংগঠনগুলি। যদিও এই ১৯ টি খনির মধ্যে ইসিএল অধ্যুষিত একটি খনিও নেই। তবে আগামীদিনে ইসিএল অধ্যুষিত এলাকার খনি নিলাম হবে, তার তালিকা তৈরি হয়ে আছে।
খনি শ্রমিক সংগঠনগুলির অভিযোগ, "বিশ্বের চতুর্থ প্রাকৃতিক সম্পদের ভাঁড়ার ভারত। সেই ভাঁড়ার এভাবে বেসরকারি সংস্থা কাছে খুলে দেওয়ায় বিপদ বাড়লো।" যদিও কয়লামন্ত্রকের এই সিদ্ধান্তকে ইসিএলের তরফ থেকে প্রেস রিলিজ করে দাবি করা হয়েছে কয়লাখনি নিলাম এক ঐতিহাসিক সফলতা। যেখানে রাজ্যগুলি বছরে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব পাবে। প্রথম পর্যায়ের নিলামে ঝাড়খণ্ড রাজ্যের রাজস্ব বৃদ্ধি হবে সব থেকে বেশি। এখানে ২ হাজার ৬৯০ কোটি টাকা আয় হবে রাজ্যের।
ইউপিএ জমানায় কয়লাখনি বণ্টনে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর সুপ্রিম কোর্ট ২১৪টি খনি বণ্টন খারিজ করে দিয়েছিল। সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে সেই খনিগুলিই নিলাম শুরু করেছে কয়লা মন্ত্রক। জানাগেছে এর আগে পশ্চিমবঙ্গের তিনটি খনি এখনও পর্যন্ত নিলাম হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের যে তিনটি খনি নিলাম হয়েছে, সেগুলি হল সরিষাতলি, ট্রান্স দামোদর ও অর্ধগ্রাম।
প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ তথা সিটু রাজ্য কমিটির সদস্য বংশগোপাল চৌধুরী নিলাম প্রক্রিয়ার তীব্র নিন্দা করে বলেন, বেসরকারি মালিকরা কোনও শ্রম আইন, পরিবেশ আইন মানবে না। ফলে কোল ইন্ডিয়া সহ ইসিএলের উৎপাদিত কয়লার উৎপাদন খরচ বেসরকারি খনির তুলনায় বেশি হবে। এরপর ধীরে ধীরে কোল ইন্ডিয়ার কয়লার চাহিদা কমতে থাকবে। ইসিএল বন্ধ হবার দিকে এগিয়ে যাবে।
প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সব আণ্ডারগ্রাউন্ড খনিগুলিকেও তখন বন্ধ করে দেবে।, স্থায়ী শ্রমিকদের স্বেচ্ছা অবসর নিতে বাধ্য করবে। সিপিআইয়ের প্রাক্তন সংসদ তথা এআইটিইসির রাজ্য সভাপতি রামচন্দ্র সিং বলেন, আণ্ডারগ্রাউন্ড খনি বন্ধ করার অনুমতি ইতিমধ্যে দশম বেতন চুক্তিতে পাঁচটি ট্রেড ইউনিয়নের কাছ থেকে নিয়ে নিয়েছে এবং নানা কৌশলে শ্রমিকদের স্বেচ্ছা অবসর নেবার হুমকি দিচ্ছে।
বেসরকারি খনির মালিকরা যেহেতু কয়লা বাজারে বিক্রি করার ছাড়পত্র পেয়ে গেল তাই ব্যবসায়িক ভিত্তিতে বণ্টন হওয়া কোল ব্লক থেকে উৎপাদন শুরু হলে ভবিষ্যতে কোল ইন্ডিয়ার দামি কয়লার বাজার থাকবে না। বাজারের প্রতিযোগিতার নিয়মে কোল ইন্ডিয়া বন্ধ হবে বা বেসরকারি মালিকানায় চলে যাবে। দেশি ও বিদেশি প্রাইভেট কোম্পানিগুলির নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে দেশের কয়লা সম্পদ।
কয়লা ক্ষেত্রকে নিলামের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই, পাঁচ শ্রমিক সংগঠন জুলাই মাসে ধর্মঘট ডেকেছিল। ফের ধর্মঘটের পথে যাচ্ছে শ্রমিক স্ংগঠনগুলি। সাত দফা দাবিতে ২৮ নভেম্বর দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের ডাকা দেওয়া হয়েছে বলে সিটু নেতৃত্ব জানান। তার মধ্যে ইসিএল সহ রাষ্ট্রায়্ত্ব সংস্থাগুলিকে বেসরকারিকরণের বিষয়টিও রয়েছে।

Comments
Post a Comment