এবারে ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে তৃণমূলের বঙ্গজননী বাহিনীর মহিলারা




আলোর উৎসবে বাংলার কোনো ঘর যেন না পড়ে থাকে আঁধারে। ঘরে ঘরে থাকা সমস্যার খোঁজ খবর নিতে রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের পরিচয় ছেড়ে এবারে পৌঁছে যাচ্ছে তৃণমূলের বঙ্গজননী বাহিনীর মহিলারা।


 তাই কোভিড অতিমারীর জেরে বিপর্যস্ত পরিযায়ী শ্রমিক ও আর্থিক দিক থেকে দুর্বল পরিবারগুলির আঙিনায় উৎসবের আলো পৌঁছে দিতে ব্রতী হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ তৃনমূলের বঙ্গজননী বাহিনী। প্রত্যেকের অভিযোগ সমস্যা নথিভুক্ত করে সমাধানের জন্য দলের উচ্চস্তরে জানাচ্ছে তারা। আবার শিলিগুড়ির আনাচে -কানাচে কালীপূজো উপলক্ষ্যে সাধারণ মানুষের বাড়িতে গিয়ে প্রদীপ,তেল ও সলতে বিতরণ করছে এই দার্জিলিং জেলার  বঙ্গজননীর মহিলারা। রাজনৈতিক কর্মীর বেশ ছেড়ে স্বেচ্ছাসেবক হয়ে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছতে হবে এমনটাই নির্দেশ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা  বন্দ্যোপাধ্যায়ের। 


সরাসরি রাজনৈতিক নেতারা ঘরে গিয়ে বাড়ির মা ও মহিলাদের খুঁটিনাটি সমস্যার যে খতিয়ান রাখতে পারেননি সেই সমস্যাই শুনবে এবারে মহিলা স্বেচ্ছাসেবী বঙ্গবাহিনী। তাই নেত্রীর নির্দেশে রাজ্যের সমস্ত জেলার সঙ্গে দার্জিলিং জেলাও তৈরি হয়েছে এই মহিলা বাহিনী। সরাসরি কোনোরকমের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হতে চান না যারা তারাই মূলত রয়েছে এই বাহিনীতে। দার্জিলিং জেলায় তনিমা ঘোষ সহ ২০জনের বাহিনী তৈরি হয়েছে।


কালী পুজোর আগে থেকে শিলিগুড়ি মহকুমার পরিযায়ী শ্রমিক ও আর্থিক অনটনে চলা পরিবারগুলির ডেটা তৈরি করে তাদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দীপাবলী উপলক্ষে প্রদীপ, তেল, সলতে বিতরণের পাশাপাশি সমস্যার কথা শুনে নিচ্ছেন তারা। বঙ্গজননী বাহিনীর অন্যতম সদস্যা তনিমা ঘোষ জানান কালিপুজোয় চীনা লাইট বর্জনের বড় বড় হুংকার অনেকেই দেয়, তবে আমরা আর্থিক ভাবে বিপর্যস্ত পরিবারগুলির কাছে গিয়ে বুঝতে পেরেছি কেন উৎসবের দিন গুলোতে প্রদীপ জ্বালাতে পারেন না তারা। 


তারা আমাদের বলেন মাটির প্রদীপের থেকে সর্ষের তেলের দাম অনেক বেশি তাই ইচ্ছে থাকলেও বাড়ি জুড়ে প্রদীপ জ্বালানো হয়ে ওঠেনা। আমরা পশ্চিমবঙ্গ বঙ্গজননী বাহিনীর সভানেত্রী মাননীয়া সাংসদ ডাঃ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে সকলের কাছে মাটির প্রদীপের সঙ্গে সরষের তেল সলতে মোমবাতি নিয়ে পৌছে যাই। এদিকে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের  সামনে নানাসময়ে লৌকিকতার কারণে অনেক নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলি নিজেদের সমস্যার কথা বলে উঠতে পারেন না। 


বিশেষ করে পরিবারের মহিলারা রাজনৈতিক সভায় বা নেতাদের কাছে নিজেদের সমস্যার কথা বলে সঙ্কোচ করেন। বঙ্গজননী বাহিনী তাদের আপনজন হয়ে তাদের খোঁজখবর নিতে তাদের ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে। নিজের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে বঙ্গজননীর মহিলাদের কাছে সমস্যার কথা খুলে বলছেন বাড়ির মহিলারা। তনিমা দেবী জানান বেশকিছু পরিবারে চালের ও খাদ্য সামগ্রী সমস্যা ছিল তা আমরা জানতে পেরেই তাদের হাতে পর্যাপ্ত খাদ্য সামগ্রী তুলে দেই। 


এই বিষয়ে তৃণমূল দার্জিলিং জেলা মহিলা সভানেত্রী সুস্মিতা সেনগুপ্ত জানান নানা কারণে অনেকেই অনেক কিছু বলে উঠতে পারেনা। বঙ্গজননীর মহিলারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে যেভাবে কাজ করছে তাদের আমি সাধুবাদ জানাই। দার্জিলিং জেলায় বঙ্গজননী বাহিনী কেবল কাজ করতে শুরু করেছে। আরও অনেক কমবেশি মেয়ে ও মহিলারা আগ্রহী সামাজিক এই কাজে। তিনি বলেন তৃনমূল বা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই যারা জড়িত নন তারা প্রত্যেকেই স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে বঙ্গজননী বাহিনীতে সামিল হতে পারে।



Comments