অমিত শাহ খেয়ে মুখ মুছে চলে গেছে চাকরি দিয়ে দলিত পরিবারের পাশে দাঁড়ালো রাজ্য সরকার। শিলিগুড়ি নকশালবাড়ির বাসিন্দা দরিদ্র মাহালি পরিবারের গৃহবধু গীতা মহালিকে বৃহস্পতিবার নকশালবাড়ি থানায় হোমগার্ডের চাকরি দিলো রাজ্য। অমিত শাহের মধ্যাহ্নভোজনের রাজনীতি এবার বুমেরাং। মুখ খুললেন শিলিগুড়ির মাহালি দম্পত্তি। 'অমিত শা এসেছিল খাওয়া দাওয়া করে চলে গিয়েছে তারপর তো আর কোনো দেখাই করেনি বিজেপি। দিদি ঘর দিলো,গ্যাস দিলো,নকশালবাড়ি থানায় চাকরিও দিয়েছে মন্তব্য চাকরিপ্রার্থী গীতা মহালির।
আমরা তৃণমূল ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে রয়েছি সাফ জানিয়ে দেন মাহালি দম্পত্তি। ঠিক আজকের দিনের মতোই ২০১৭সালে২১ শে এপ্রিল নির্বাচনী রাজনীতি করতে এসে শিলিগুড়ির নকশালবাড়িতে মহালি দম্পতিকে দলিত পরিবার আখ্যা দিয়ে রাজু মহালি ও গীতা মহালির বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজন করেন অমিত শা। আর্থিক চরম অনটনে চলা পরিবারটিকে ভুঁড়ি ভুঁড়ি ওয়াদা করে যান। তবে তারপর এই চারবছর রাজ্য, জেলা নেতৃত্বতো দূরস্থ বিজেপির স্থানীয় নেতারাও কোনোদিন মুখ ফিরেও তাকাননি তাদের দিকে।
এক ছেলে ও এক মেয়ে দুই সন্তান নিয়ে আর্থিক অনটনের পরিবার রাজু মহালি ও তার স্ত্রীর। আর্থিক অবস্থার কথা শুনে পরিবারটির পাশে দাঁড়ান মন্ত্রী গৌতম দেব। ফের একই ভাবে অমিত শাহের মধ্যাহ্নভোজনের রাজনীতি প্রসঙ্গে গীতা মহালি বলেন উনি আবার খেতে যাচ্ছেন যান,ওদেরকে যেন ভালো মতো দেখেন।আমাদের সাথে তৃনমূল ছিল তাই যা হয়েছে ভালোই হয়েছে। এদিকে রাজ্যের তরফে ভাঙাচোরা ঘরে মাথা গোজা দুর্বিষহ হয়ে ওঠে পরিবারটিকে সরকারের প্রকল্পে ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়, রান্নার জন্য গ্যাস দেওয়া হয়।
রাজু মহালি বলেন-দুই ছেলে মেয়েকে নিয়ে রুজিরুটি জোগাড় করা আমার পক্ষে কষ্টকর হয়ে উঠেছিল। অমিত শা এসে খাওয়া দাওয়া করে চলে যান আর তারপর থেকে বিজেপির কখনো কেউ খোঁজ নেয়নি। সেসময় মন্ত্রী গৌতম দেব এসে আমাদের অবস্থা দেখে কথা দিয়েছিলেন একটি চাকুরী ব্যবস্থা করে দেবেন তিনি। মন্ত্রী এবং তৃনমূল কথা রেখেছে আমার স্ত্রীকে হোমগার্ডের চাকুরী দেওয়া হলো।
এখন স্ত্রী চাকুরী করবে দুই সন্তানকে নিশ্চিন্তে মানুষ করতে পারবো। আমরা খুব খুশি। এদিন নকশালবাড়ি থানায় একটি অনুষ্ঠান করে মহালি পরিবারের হাতে হোম গার্ডে চাকুরীর নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয় গীতা মহালির হাতে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত দার্জিলিং জেলা তৃনমূল সভাপতি রঞ্জন সরকার বলেন- অমিত শা কার বাড়িতে অতিথি হয়ে মধ্যাহ্নভোজন সারবেন তাতে কারো কিছু বলার নেই
কিন্তু মধ্যাহ্নভোজনের নামে বাংলায় জাতপাতের বিভেদ এনে যে রাজনীতির তিনি করতে চাইছেন সে সংস্কৃতি বাংলার নয়। তিনি গরিব পরিবারকে যেভাবে ভুঁড়ি ভুঁড়ি মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা কোনোটিই তারা রাখেননি।
কিন্তু একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শুধু মাহালি পরিবারের সঙ্গে নয় সমস্ত দরিদ্র পরিবারের সঙ্গে থাকেন। আজকে ফের প্রমাণিত হলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে কথা দেন সে কথা তিনি রাখেন।

Comments
Post a Comment